প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায় - কিভাবে ওজন কমানো যায় - How to lose weight fast /bangla

প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায়। কিভাবে ওজন কমানো যায় জেনে নিন। 


শরীরের ওজন কন্ট্রোল করাটা সুস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় যাবত বসে বসে কাজ করা বা পরিশ্রম কম হওয়ার কারণে পেটে মেদ জমে যায়।

প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায়
কিভাবে ওজন কমানো যায়। 

এই আর্টিকেল টিতে যা জানতে পারবেন: প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায় ও কিভাবে ওজন কমানো যায়। 

আমাদের দেহের অস্বাভাবিক মেদ বা চর্বি নিয়ে আমরা অনেকেই চিন্তিত। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য নয়, দৈহিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে নারী-পুরুষ উভয়েই এ বিষয়ে ভাবেন। কিন্তু আজকাল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এতটাই কর্ম ব্যস্ততা যে, ব্যায়াম বা ডায়েট করে ওজন কমানোর সময় নেই।

তারপরও, অনেক সহজ পদ্ধতি প্রয়োগ করে আপনিও পারবেন ওজন কমাতে। কারণ এটি কোনো অসাধ্য কাজ নয়। মানুষ এখন অনেক ভাবেই দেহের ওজন কমাতে পারে। তাই আপনাকে খুজে বের করতে হবে যে, কোন কৌশলটি আপনার জন্য উত্তম। 

মেদহীন সুন্দর স্বাস্থ্য আমাদের সবারই পছন্দ। সবাই প্রত্যাশা করে যে নিজের সুন্দর ও সুগঠিত স্বাস্থ্য রাখতে। জানেন কি এজন্য আপনাকে খুব বেশি প্রচেষ্টা বা খুব বেশি ব্যায়াম করার প্রয়োজন হবে না। শুধু মাত্র আপনার প্রতিদিনের খাবার আইটেম কিছু পরিবর্তন করলেই হতে পারবেন সুন্দর ও সুগঠন দেহের অধিকারী। তাহলে চলুন দেখি কি কি পরিবর্তন করতে হবে।

  প্রথমেই মোটা হওয়ার কারণ:


আমাদের স্বাস্থ্য দিন দিন মোটা হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ করা, চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া। ভালো কোনো খাবার দেখলেই লোভ সামলাতে কষ্ট হয়। তখন পরিমাণের চেয়ে বেশী খাবার গ্রহণ করা হয়। যা কিনা আমাদের স্বাস্থ্য মোটা করে। শারীরিক পরিশ্রম কম হওয়ার কারণে আমাদের দেহে চর্বি জমতে শুরু করে। এবং দিন দিন মোটা হতে থাকে। কারণ আমাদের খাবারের পরিমাণ যদি বেশি থাকে এবং শারীরিক পরিশ্রম কম থাকে তাহলে মোটা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায়:


প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর সবচাইতে কার্যকরী উপায় হচ্ছে, ডায়েট করা, ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত খাবার না খাওয়া।

ডায়েট করে কিভাবে ওজন কমানো যায়: ডায়েট বলতে আমরা অনেকেই মনে করি, না খেয়ে থাকা বা খাবার কম খাওয়া। যা কিনা একেবারেই ভুল ধারণা। যদি আপনি না খেয়ে আপনার ওজন কমাতে চেষ্টা করেন, তাহলে হয়তো ওজন কমাতে পারবেন কিন্তু সাথে সাথে আপনার স্বাস্থ্য আরো খারাপ হয়ে যাবে। বিভিন্ন ধরনের রোগ ব্যাধি দেখা দেবে। তাই আমাদের উচিৎ সঠিকভাবেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে ডায়েট কনট্রোল করা।

এমন সব খাবার খান যেগুলোতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট এবং ফাইবার , অল্প পরিমাণে প্রোটিন
আছে।

ডায়েট করার কিছু টিপস:


আলু,কুমড়ো, এবং কাচা কলা এসব খাবার থেকে বিরত থাকুন। ছাকা তেলে ভাজে এমন কোনো খাবার খাবেন না। অ্যালকোহল, এনার্জি ড্রিংকস, হেলথ ড্রিংকস, সফট ড্রিংকস এসব খাবার ভুলেও গ্রহণ করবেন না। মিষ্টি জাতীয় খাবার বা চিনি যতটুকু সম্ভব কম খাবেন। গরু,খাসির মাংস, এবং চিংড়ি মাছ খাওয়া যাবেনা। এরকম অনেক খাবার আছে, আপনি আপনার পছন্দমতো একটি লিস্ট তৈরি করুন, যা কিনা আপনার বাজেট এর আওতায় থাকে। শুধু এদিকে লক্ষ্য রাখুন যে, আপনার খাবারে যেন ফাইবার, ভিটামিন, মিনারেল এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যথেষ্ট পরিমাণে থাকে।


 ডায়েটে হোলমিল এবং নানা রকম দানাশস্য রাখুন, কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, যেমন-হোলহুইট ব্রেড, রাইস, ওটস মিল, হোল মিল পাস্তা, বার্লি, ব্রাউন রাইস এসব খাদ্য তালিকায় রাখুন প্রয়োজন মতো।
ওবেসিটি কমিয়ে সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন যথেষ্ট পরিমাণে ফল ও শাক সবজি খান। আপনার যদি 
ঘন ঘন খিদে লাগে, তাহলে হেলদি স্ন্যাক্স খেতে পারেন অথবা ফলমূল খান। বিভিন্ন ধরনের সবজি খান, কিন্তু ভাত খাবেন না। প্রয়োজনে তিন বেলা খাবারকে আপনি ছয় বার খান তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু একবার যদি বেশি পরিমাণে খান তাহলেই সমস্যা।

প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানি খাওয়ার উপকারিতা অনেক বেশী। পানি আমাদের দেহের মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে এবং রক্তের দূষিত পদার্থ প্রস্রাবের সঙ্গে বের করে দেয়। মেটাবলিজম বৃদ্ধি হওয়ার কারণে দেহে চর্বি জমতে পারে না, তাই এটি আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে।

বেশি বেশি হাঁটা চলা করুন। দৌড়ানো, সিড়ি বেয়ে উঠা এবং হাঁটা চলা করা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। শারীরিক পরিশ্রম যত বেশি হবে ততই ওজন কমানোর আশংকা বাড়বে।

পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমোতে হবে। কারণ ঘুম পর্যাপ্ত পরিমাণে হলে, আমাদের দেহে মেদ কম জমে এবং জমানো মেদ গুলোকে ঝরাতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজন।

খাবারে অতিরিক্ত মসলা থাকলে আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু কিছু কিছু মসলা আমাদের ওজন কমাতে সাহায্য করে। যেমন, দারুচিনি, আদা ও গোলমরিচ এগুলো আমাদের রক্তে শর্করা কমিয়ে দেহের ওজন কমায়। তাই এসব মসলা নিয়মিত কিছুদিন ব্যবহার করুন।


শরীরের পাচন ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য মানসিক চাপ থেকে বিরত থাকুন। যত সম্ভব কম চাপে থাকার চেষ্টা করুন। কারণ এই মানসিক চাপ আপনার দেহের পাচন ক্ষমতা কমিয়ে দেহে মেদ জমাট করে। যার ফলে ওজন বৃদ্ধি পায়।

 অতিরিক্ত তৈলযুক্ত খাবার ক্ষতিকর। এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস এগুলো এড়িয়ে চলুন। এগুলি পেটে মেদ জমাট করে।

এই সবকিছুর পর যদি আপনি হাল্কা পাতলা ব্যায়াম করেন তাহলে খুব দ্রুত গতিতে আপনার ওজন কমতে বাধ্য। তাহলে চলুন শুরু করি।

ব্যায়াম করে ওজন কমানোর উপায়  ও কিভাবে ওজন কমানো যায়:

কিভাবে ওজন কমানো যায়
কিভাবে ওজন কমানো যায় 

 জানেন কি,বাড়িতে বসে না থেকে কিছু কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করা যায়। এজন্য সময় খুবই কম লাগে। কিন্তু আপনি আপনার দেহ ফিট রাখতে পারবেন এবং অতিরিক্ত মেদ দেহের ভিতরে জমা হবে না।

বাড়িতে যতোটুক সময়ে শুয়ে বা বসে না থেকে হাঁটা চলাও যে এক ধরনের ব্যায়াম তা হয়তো অনেকে ভাবেন না। বাড়িতে যদি সিড়ি থাকে তাহলে কারণে অকারণে  উঠা নামা করেন। যদি পারেন তাহলে খুব বেশি ভারী নয় এমন কিছু হাল্কা পাতলা জিনিস বহন করুন। এতে করে আপনার মাসল টুনড হতে সাহায্য করবে।

বিভিন্ন ধরনের স্ট্রেচিং ব্যায়াম করুন, আর্ম স্ট্রেচিং , লেগ লিফটিং এগুলো আপনার দেহের রক্ত সঞ্চালন করতে সহায়তা করবে এবং দেহের বিভিন্ন অংশ মেদ কমাতে সাহায্য করবে।

আপনার হার্ট সুস্থ রাখতে জগিং ব্যায়াম অত্যন্ত উপকারী। এ সময়টিতে আরো বেশি উপকারী। জগিং করার সময় অবশ্যই জুতা পরবেন, যাতে করে পায়ের উপর প্রেসার না পরে।


আপনার দুই হাত সোজা করে উপরের দিকে রেখে, পায়ের পাতায় ভর দিয়ে যতটুকু সম্ভব লাফা লাফি করুন। এক বা দুই মিনিট হয়ে গেলে আবার এক বা দুই মিনিট বিশ্রাম নিন। এভাবে এটি রিপিট করুন দুই থেকে তিনবার।

এছাড়া আরো পুশ আপ্চ ব্যায়াম করতে পারেন। এটি ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত জরুরী। তাই সকালে ও বিকেলে পুশ আপ্চ করুন। প্রথমেই মাটিতে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ুন, তারপর দুটি হাতের সাহায্যে উঠার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখতে হবে যেন আপনার হাটুতে ভাজ না পরে। এভাবে প্রথম দিন 5 থেকে 10 টি পুশ আপ্চ করুন। পরে দিন দিন আরো বাড়াবেন 50 থেকে 100 টি পর্যন্তও করতে পারেন। এটি নির্ভর করে আপনার দেহের কন্ডিশন এর উপর। এই পুশ আপ্চ ব্যায়াম আপনার চেস্ট এবং আর্ম মাসল এর শক্তি বাড়াবে।

সিট আপ্চ ব্যায়াম করুন। মাটিতে সোজা হয়ে শুয়ে পড়ুন। আপনার হাটু ভাজ করে, বা হাতটি ডান কাঁধের উপর রাখুন এবং ডান হাত বাম কাঁধের উপর রাখুন। তারপরে দেহের উপরের অংশ আস্তে আস্তে উঠতে চেষ্টা করুন। মাঝা মাঝি গিয়ে কয়েক সেকেন্ড থামার চেষ্টা করুন। এভাবে রিপিট করুন 5 থেকে 10 বার। তারপরে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ান। এতে করে আপনার পেটের মাসল আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

উপরোক্ত আলোচনা অনুযায়ী আপনি যদি এসব ফলো করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আপনি ওজন কমাতে সক্ষম হবেন। আমাদের এই আর্টিকেল টি যদি আপনার উপকারে আসে তাহলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। আপনার বন্ধুদেরকেও স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলোন।
প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায় - কিভাবে ওজন কমানো যায় - How to lose weight fast /bangla প্রাকৃতিক উপায়ে ওজন কমানোর উপায় - কিভাবে ওজন কমানো যায় - How to lose weight fast /bangla Reviewed by Healthshocheton on July 22, 2019 Rating: 5

2 comments:

Powered by Blogger.